ঠিকাদারের খামখেয়ালিতে ওরা এখন পঙ্গু

বিষন্নতা নিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামে তাদের পাড়ায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কষ্ট বেড়ে যায়। পড়শীরা ঘুমিয়ে পড়লেও তাদের চোখে ঘুম আসে না। চিন্তার পাহাড় মাথায় নিয়ে শুধু চোখ ভিজিয়ে রাত পোহায়। অনাগত ভবিষ্যৎ উদ্বিগ্ন করে তোলে তাদের। প্রতিনিয়তই তাড়া করে ক্ষুধা আর দারিদ্র্য। বলছিলাম, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম কচুয়া ইউনিয়নের পাশাপাশি কয়েটি গ্রামের অর্ধশত পঙ্গু মানুষদের কথা। কারও হাত নেই। কারও নেই পা।

আবার অনেকের হাত-পা দুটোই কাটা পড়েছে। এমন বেশকিছু পঙ্গু মানুষের সন্ধান মেলে চন্দনপাট, ওসমানেরপাড়া এবং পশ্চিম কচুয়া গ্রামে। ওরা সবাই পল্লী বিদ্যুতের শ্রমিক। স্বল্প পয়সায় শ্রম বিক্রি করতো। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পল্লী বিদ্যুতের নতুন লাইন টানানোর কাজে এরা শ্রমিক ছিলেন। পল্লী বিদ্যুতের একটি দালাল চক্র গ্রামের সহজ সরল মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজের জন্য পাঠায়। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এসব মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে জড়িয়ে পড়েন। এক মুঠো ভাতের জন্য জীবনকে তুচ্ছ করে এমন কাজে জড়িয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এই এলাকার অসংখ্য মানুষ।

অনেকটা সিনেমার গল্পের মতই এদের জীবনে হঠাৎ করেই অন্ধকার নেমে এসেছে। সাঘাটার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী জাহিদ খন্দকার এসব অসহায় পঙ্গু মানুষদের খোঁজ দেন। তার দেয়া তথ্য অনুসন্ধান করতে সাঘাটা উপজেলার ৩টি গ্রাম ঘুরে কথা বলি এসব মানুষদের সঙ্গে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার গল্প শুনতে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়।
চন্দনপাট গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ শহিদুল ইসলাম। একই গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের সুপারভাইজার আনোয়ার, বাবলুর খপ্পড়ে পড়ে নেত্রকোনায় যান শ্রমিক হিসেবে। ময়মনসিংহের ঠিকাদার রুহুল আমিন ছিলেন সেই লাইনের দায়িত্বে। চলমান লাইনে কাজ করতে গিয়ে তিনি দুই হাত হারিয়েছেন। দুই হাতের কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে। অসহায় জীবনের করুণ কাহিনী শোনান তিনি মানবজমিনকে। শহিদুল ইসলাম ওই দিনের দুর্ঘটনার বর্ণনা দেন এভাবেই- ‘১৯৯৬ সালে আমার এক্সিডেন্ট হয় নেত্রকোনা এলাকায়। আমাকে বলা হয়েছিল বিদ্যুতের তারে সংযোগ নেই। লাইনে কাজ শুরু করো। আমি তখন লাইনম্যানের কথামতো খুঁটির উপরে উঠি। তারপর বিদ্যুতের তারে হাত দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আটকে যাই। তারপর আর কিছু বলতে পারিনা। পরে অন্যরা আমাকে খুঁটি থেকে যেভাবেই হোক নামিয়েছে। নামানোর পর সহকর্মীরা আমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। চেতনা ফিরে আসার পর আমার হাতে খুব জ্বালা অনুভব করছিলাম। হাসপাতালের পরিবেশ খুব খারাপ ছিল। কোনো ডাক্তার যত্ন নিয়ে দেখে না। আমি সঠিক চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পড়ে যাই। আমার দুই হাত আস্তে আস্তে ফুলতে লাগলো। এক সময় ফুলে পায়ের রানের মতো মোটা হয়ে গেল। আমার এক চাচা পিজি হাসপাতালে ছিল। আমি তার সঙ্গে কথা বলার পর রিলিজ নিয়ে পিজি হাসপাতালে যাই। সেখানে চাচার সহযোগিতায় আমার অপারেশন হয়। রাতে অপারেশন হয়েছে। সকালে উঠে দেখি আমার দুই হাত নেই। তখন অঝরে কেঁদেছি হাসপাতালের বিছানায়। তারপর থেকে জীবনের গতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

সুপারভাইজার আমাকে কোনো সহায়তা করেনি। চিকিৎসার সময় অল্প কিছু টাকা দিয়েছিল। তারপর কোনো টাকা পয়সা পাইনি। সুপারভাইজার বলেছিল টাকা পয়সা দেয়া হবে। এজন্য আমি তিনবার নেত্রকোনা গিয়েছি। কিন্তু টাকা পায়নি। ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে আমাকে বিদায় করেছে তারা।

আমার বর্তমানে চলার কোনো পথ নাই। আমার একটা ছেলের দুইটা কিডনি নষ্ট হয়ে চিকিৎসার অভাবে কিছুদিন আগে মারা গেছে। আমি তার ভালো চিকিৎসা করাতে পারিনি। ছোট ছেলেটা দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য প্রার্থী। পঙ্গু বিধায় কেউ কাজও দেয় না। আমি খুব অসহায় অবস্থায় আছি। এসব কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শহিদুল।

একই গ্রামের আরেকজন পঙ্গু শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম (৪৬)। ২০১৭ সালে একই এলাকার ঠিকাদার মোখলেছুর রহমানের ডাকে কাজে যান। সেখানে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তার দুই পা অকেজো হয়ে যায়। জমিজমা সব বিক্রি করে চিকিৎসা করেও সুফল পাননি তিনি। নিদারুণ কষ্টে এখন তার দিন অতিবাহিত হচ্ছে। তিনি কীভাবে পঙ্গু হলেন তার বর্ণনা দেন মানবজমিনের কাছে। ‘আমি বিদ্যুৎ এর কাজ করার জন্য খুঁটি নিয়ে একটি রাস্তায় যাই। এ সময় একটি সিএনজি পিছন থেকে আমাকে ধাক্কা মারে। তখন আমার পা গাড়ির নিচে চলে যায়। তারপর নিমিষেই আমার সব শেষ হয়ে যায়। আবাদি জমি সব বিক্রি করে চিকিৎসা করেও কোনো লাভ হয়নি। জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছি। আর পায়ে ক্ষত হয়ে পঙ্গু হয়ে আছি। আমার স্ত্রী এখন অন্যের বাড়িতে কাজ করে। তার আয়ের উপরেই জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। আমার ছেলে অনেক মেধাবী। সে এইচএসসি পাস। পরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি করাই। ৬ষ্ঠ সেমিষ্টার পর্যন্ত পড়ালেখার পর আর খরচ দিতে পারিনি। ছেলের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। এলোমেলো হয়ে গেছে। আমি প্রতিবন্ধী কার্ড করতে গিয়েছিলাম আজ পর্যন্ত আমার কার্ড হয়নি। আমার পরিবারে ছয় জন সদস্য। আমি তাদের নিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছি।

মাত্র বিশ বছরের তরুণ ফরহাদ হোসেন। সাঘাটার হেলেঞ্চা গ্রামের বাদশা আলীর ছেলে। একই উপজেলার চন্দনপাট গ্রামের শ্রমিক সরদার হাসিবুর রহমানের খপ্পড়ে পড়ে পল্লী বিদ্যুতের কাজ করতে যাই। নাটোরের লালপুর এলাকায় ঠিকাদার ফজলুর রহমানের অধীনে কাজ শুরু করি। ফরহাদ এর আগে কখনো পল্লী বিদ্যুতের কাজ করেনি। একেবারেই নতুন। কোনো প্রকার প্রশিক্ষণও ছিল না। কম টাকায় শ্রমিক পেয়ে ইচ্ছেমতো কাজে লাগায় ঠিকাদার। কাজ শুরুর কয়েকদিনের মাথায় বিদ্যুতের ঢালাই খুঁটি মাটিতে পুঁততে গিয়ে উপড়ে পড়ে যায়। এ সময় ফরহাদ ওই খুঁটি পোঁতার কাজ করছিল। কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েক টন ওজনের ওই খুঁটি ফরহাদের ডান পায়ের উপর পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ফরহাদের পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও ফরহাদ এখনো সেরে ওঠেনি। পায়নি কোনো আর্থিক সহযোগিতা। নেয়নি কেউ খোঁজও।

চন্দনপাট গ্রামের আরেক কিশোর বাবু ইসলাম। বয়স মাত্র ২০ বছর। পিতা আব্দুস সবুর। পড়ালেখার ফাঁকে ছুটি পেলে কাজে যায়। একই গ্রামের শ্রমিক দালাল আশরাফুলের মাধ্যমে। তার প্ররোচনায় পল্লী বিদ্যুতের শ্রমিক হিসেবে কাজে যায় বাবু ইসলাম। ২০১৮ সালের ঘটনা। ঘটনাস্থল ফেনী। ওইদিন শুক্রবার ছিল। সারাদিন কাজ করে বাবুরা। বিকালে ফোরম্যান এসে বলে আজ রাতে কাজ হবে না। সবাই ঘুমিয়ে পড়। পরে সন্ধ্যার একটু আগে আবার ফোরম্যান তাদের বিশ্রাম স্থলে এসে হাজির হয়। কাজে যাওয়ার আদেশ। বিকালের ঘুমে সবাই তখনো বিছানায়। ঘুম থেকে ডাকা হয় সবাইকে। কাজ শুরু হয়। ফোরম্যান বাবুকে বলে লাইন বন্ধ আছে তুমি গিয়ে লাইনের তারটি জোড়া লাগাও। আমি ফোরম্যানের কথা মতো একপাশের তার আরেকপাশের তারে লাগাতেই আগুন ধরে যায়। সেই আগুনেই বাবুর হাতটা আজীবনের জন্য শেষ হয়ে যায়।

বাবু সেদিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে আরও বলেন, ‘ওই সময় আমি কাত হয়ে পড়ে যাই। আমার মুখ থেকে রক্ত বের হয়। আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে জানাজানি হলে দুইজন লাইনম্যান এসে আমাকে নামিয়ে নিয়ে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওখানে ব্যান্ডেজ করার পর তারা বলছে এখানে চিকিৎসা হবে না, হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল না হয় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাও। পরে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেলে রাত ৩টায় পৌঁছানোর পর বেড না পেয়ে আমাকে মেঝেতে থাকতে হয়। এর কয়েকদিন পর শুরু হয় শবেবরাতের রাত। পরে ডাক্তাররা বললেন শবেবরাতসহ ৪ দিন ছুটি। সেই কারণে ডাক্তার থাকবেন না। ফলে চিকিৎসা বন্ধ হয়। এদিকে আমার হাতের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। অন্যদিকে ফোরম্যান বা কন্ট্রাক্টর কেউ আমার কোনো খোঁজখবর নেয় না। আমার দুলাভাই সঙ্গে ছিল। তিনি আমার দেখাশোনা করেছেন। তারপর সাতদিন পর আমার বাবা-মা খোঁজ পায় এবং সেই রাতেই তারা ঢাকায় আসে। আমি রাতে ঘুমিয়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি আমার বোন আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সেদিনই আমার অপারেশনের ডিড ফরমে সই করা হয়। অপারেশন করা হয়। কেটে ফেলা হয় বাম হাতের কনুই পর্যন্ত। এরপর থেকে আঁধারে মিশে যায় বাবুর স্বপ্ন। ঘোর অন্ধকার নেমে আসে অবয়বজুড়ে।

হতভাগা এনামুল হক। একই গ্রাম। চন্দনপাট। পিতা মৃত সিরাজুল ইসলাম। এক হাত এবং এক পা কাটা পড়েছে। দুর্ঘটনার সময় তার বয়স ছিল বিশ বছর। ২০০৪ সালে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। এখন তার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। একই গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের ফোরম্যান সিদ্দিকের মাধ্যমে কাজে যান। নিজ গ্রাম থেকে বহুদূর পথ পাড়ি দিয়ে চলে যান সিলেটের নালাবাজার এলাকায়। কীভাবে ওইদিন দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন সেই করুণ কাহিনী মানবজমিনকে বললেন, ‘আমি সকালে উঠে কাজে গেলাম। খুঁটিতে উঠলাম। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটে গেল বুঝতে পারলাম না। আমার পায়ের নিচে একটা রড ছিল। রডটা একটু ভাজ হয়ে বাম হাঁটু এবং ডান হাতে জোরে আঘাত লাগলো। এরপর লাইনম্যানরা আমাকে দ্রুত নিচে নামায়। নামার পর আমি আর হাঁটতে পারলাম না। দ্রুত শরীরটা ঝিমিয়ে গেল। আমাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। ফোরম্যান ওখানে রেখে চলে যায়। আমি একা পড়ে থাকলাম হাসপাতালে। চলাফেরা একেবারেই বন্ধ। পরে বাড়িতে খবর পাঠাই। যতক্ষণে বাড়ির লোকজন আসে ততক্ষণে আমার হাতে এবং পায়ে ইনফেকশন হয়ে কালো হয়ে যায়। অপারেশনের পর আমার জ্ঞান ফিরে দেখি আমার এক হাত এবং এক পা নেই। আমি তখন কান্নায় ভেঙ্গে পরি। ডাক্তাররা এসে আমাকে অনেক বুঝালো। আমি বললাম আমায় দেখবে কে? পরে বাড়িতে আসলাম। ভাইয়েরা তো সান্ত্বনা দেয় কিন্তু পাশে কে দাঁড়াবে? আমাকে দেখার কেউ নেই। পরে গাইবান্ধা গিয়ে একটা হুইল চেয়ার নিয়ে আসলাম। এখনো আমি চামচ দিয়ে ভাত খাই। পরে মা ভাইদের বলে একটা প্লাস্টিকের পা লাগালাম। এই এক পা দিয়ে কোনোমতে সংসারটা চালাই। দুইটা মেয়ে আছে একজন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে আর একজন শিশু শ্রেণিতে পড়ে। যার হাত-পা নেই তার সংসারে খুব অশান্তি। মালিককে অসংখ্যবার ফোন দিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন তার করার কিছু নেই। ফোরম্যানও কোনোদিন খোঁজ নেয়নি।

২০১৮ সালের কথা। আব্দুল বাসেদ তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। পিতা আসাদুল ইসলাম আসাদ। গরীব পরিবার। পরিবারের কষ্টের কথা চিন্তা করে ঠিকাদার জাহিদ মিয়ার অধীনে পল্লী বিদ্যুতের কাজে যায় বাসেদ। সুনামগঞ্জ এলাকায়। কাজের পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় একটি দুর্ঘটনায় ২০১৮ সালে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সন্তান হারিয়ে এখনো নির্বাক হয়ে আছেন বাসেদের পিতা আসাদ। তিনি বলেন, আর কারও সন্তান যেন পল্লী বিদ্যুতের কাজে গিয়ে আমার মতো বুক খালি না করে। তার মতে ভিক্ষা করে খাওয়া ভালো কিন্তু কাজ না জেনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে না যাওয়া ভালো। ওইদিনের দুর্ঘটনায় আব্দুল হাই নামের আকেরজন মারা যায়।

এমনিভাবে একই এলাকার বাদশা মিয়া, ফারুক, ঝাড়াবর্ষা এলাকার আব্দুল হাকিমসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বিদ্যুতযোদ্ধা হাত-পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে আছেন। এদের খোঁজ নিতে সরকারি বেসরকারি কোনো দপ্তর অথবা জনপ্রতিনিধিদের আগমন ঘটেনি বলে তারা আক্ষেপ করেছেন। তবে গণমাধ্যমে বাদশা মিয়াকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কিছু মানুষ তাকে সহযোগিতা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী জাহিদ খন্দকার মনে করেন, চন্দনপাটসহ আশেপাশের এলাকায় বেশির ভাগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার, ফোরম্যান এবং দালালরা মিলে এসব গ্রামের সহজ সরল মানুষদের অল্পটাকায় চুক্তি করে বেশি টাকায় বিক্রি করে দেয়। এদের কেউই প্রশিক্ষিত নয়। আবার এদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীও আছে। তিনি মনে করেন, পল্লী বিদ্যুতের লাইনের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে এসব কাজে ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মানোয়ার মোর্শেদের সঙ্গে কথা বললে তিনিও বলেন, বিদ্যুতের লাইনে কাজ করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা বরাবরেই ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলি। তাদেরকে প্রশিক্ষিত শ্রমিকদের কাজে লাগাতে তাগিদ দেয়া হয়। কিন্তু কম টাকায় শ্রমিক নিয়ে ঠিকাদাররা এসব শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের নিয়োগপ্রাপ্ত যেসব লাইনম্যন আছে তাদের আমরা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।

পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিদের এভাবে পঙ্গুত্ববরণে অনেক সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়েছে। প্রিয়জনদের পঙ্গুত্বের নিদারুণ কষ্ট অথবা অকাল মৃত্যু পরিবারের সবাইকে বেদনাবিধুর করে তুলছে। তবুও অসাধু ঠিকাদারদের একটুও বুক কাঁপছে না। বিদ্যুৎ বিভাগ, ঠিকাদার, ফোরম্যানরা কেউ এদের দায়দায়িত্ব নিতে চায় না। তাহলে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এমন নিশ্চিৎ দুর্ঘটনাগুলোর দায় কে নেবে? এমন জিজ্ঞাসার উত্তর মেলেনা কারও কাছে।

 

মানবজমিনে পড়ুন…

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *