প্রশাসন চাইলেই দখল মুক্ত করতে পারে নদীকে। বগুড়ায় পালিত হলো নদী দিবস

প্রতীক ওমর: নদী মাতৃক বাংলাদেশ আস্তে আস্তে নদীহীন হয়ে যাচ্ছে। দখল আর দুষণে ইতোমধ্যেই দেশের খরস্রতা বহুনদী মৃত হয়েছে। প্রশাসনের উদাসীনতা আর সাধারণ মানুষের চুপ হয়ে বসে থাকার সুযোগে হাতেগোনা কিছু রাঘব বোয়ালদের হাতে প্রতিনিদিন দেশের নদী নিহত হচ্ছে। কখনো ক্ষমতার দাপট, কখনো আবার অর্থেও বিনিময়ে প্রশাসনের চোখ-মুখ বন্ধ করে নদী দখলে নেমে পড়ছে দস্যুরা। এমন দস্যুতার শিকার বগুড়ার করতোয়া নদীও। এক সময় সুদূর খুলনা থেকে করতোয়া নদী বেয়ে নৌকা আসতো বগুড়া শহরে। শতশত বাণিকরা তাদের মালামাল আনানেয়া করতো এই নদী দিয়েই। আজ সেই নদী হতে গোনা কিছু মানুষের অমানুষিক রোশানলে নালায় পরিনত হয়েছে। বগুড়ার প্রশাসনের চোখের সামনেই একটি এনজিও এবং প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি করতোয়া দখল করে ইচ্ছে মত বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করেছে। এনিয়ে সাধারণ মানুষ, কিছু সামাজিক সংগঠন মাঝেমধ্যে প্রতিবাদ করলেও অদৃশ্য কারণে তারা থেমে যায়। নদী দস্যুরা সেই সুযোগে আবারো মেতে ওঠে দখলে। এভাবেই চলছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নদী করতোয়া দখলের মহৎসব।

বগুড়ার পৌরসভার সাবেক মেয়র বর্ষিয়মান রাজনীতিবিদ এ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান বলেন এক সময় এই করতোয়া ছিলো খরস্রোতা। তীব্র স্রোতের কারণে উল্টোদিক থেকে আসা নৌকা ভীরতে অনেক সময় নিয়েছে। তিনি বলেন, এখনো আমার স্মৃতিতে স্পষ্টভাবে ভেসে ওঠে করতোয়ার দৃশ্যপট। সুদূও খুলনা থেকে নারকেল বোঝাই নৌকা বগুড়া শহরে ভিড়তো। এখানে আসতে শাজাহানপুরের একটি অংশে করতোয়াতে তীব্র স্রোত হতো। ঘুর্ণিপাক খেতো পানি। সেইপথ পাড়ি দিয়ে নৌকা সহজে আসতে পারতো না। মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ আসতে তিন চার দিন সময় লেগে যেতো শহরের ঘাটে পৌছাতে। মাঝিমাল্লারা সেই নৌকাতেই রান্না করে খেতো। নৌকাতেই রাত্রিডাপন করতো। তিনি আরো বলেন, আমি নিজে দেখেছি বগুড়ার চেলোপাড়া অংশে চ্যালা মাছের দেখা মিলতো প্রচুর। সেখানে জাল ফেলে জেলেরা চ্যালা মাছ ধরতো এজন্যই ওই পাড়ার নাম চ্যালোপাড়া হয়েছে। সেই নদী চোখের সামনে আজ অসহায় করুণ হয়ে পড়ে আছে। কেউ কোন উদ্যোগ নেয় না নদীকে স্বচল করতে।


রবিবার ছিলো বিশ্ব নদী দিবস। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন, রালী এবং করতোয়া নদীতে প্রতীকী কাগজের নৌকা ভাসানোর এবং দখল-দুষণ মুক্ত নদীর দাবীর মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে।
বাপা বগুড়া শাখার সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে করতোয়া নদী তীরবর্তী বগুড়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বিশ্ব নদী দিবস কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন বগুড়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-প্রাবন্ধিক, কবি বজলুল করিম বাহার। এ সময় নদী দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, বাপা’র কেন্দ্রীয় সদস্য ও বগুড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: জিয়াউর রহমান।

বক্তারা বলেন, এই অঞ্চলের কৃষিকে বাঁচাতে হলে করতোয়ার প্রাণ ফেরানো জরুরি। জীবচৈত্র রক্ষাতেও নদীকে প্রয়োজন। প্রশাসন চাইলেই করতোয়াকে দখল মুক্ত করতে পারে। আলোচনার মঞ্চ থেকে বক্তরা বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন আমাদের নদীকে আমরা সবাই মিলে রক্ষারকরি।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *